অব্যবস্থাপনায় চলছে মহালছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

0

মহালছড়ি প্রতিনিধি

techchtbd

খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন যাবৎ চরম অব্যবস্থাপনা বিরাজ করছে বলে স্থানীয় এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়। এ ধরনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এলাকায় কর্মরত সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা সরেজমিনে তথ্যানুসন্ধানে সত্যতা প্রমান পান।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর রোজ সোমবার বেলা ১১ ঘটিকায় এবং ২৭ সেপ্টেম্বর রোজ রবিবার বেলা ১১ ঘটিকায় স্থানীয় সাংবাদিকগণ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখতে পান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ফ্লোরে অযত্নে অবহেলায় পড়ে রয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকার সরকারি ঔষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী এবং কমিউনিটি ক্লিনিকের মূল্যাবান ঔষুধ ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য সরঞ্জাম যা চলমান মৌসুমে বেশ কিছু বৃষ্টির পানিতে ভিজে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তবে এই বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলতে চাইলে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী জাহাঙ্গীর আলম জানান তিনি জেলায় সিভিল সার্জন অফিসে মিটিংয়ে আছেন ।

চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী জাহাঙ্গীর আলম স্থানীয় সাংবাদিকদের আরো জানান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ধনিষ্ঠা চাকমা খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের নেতার মেয়ে, তাই তার ব্যাপারে মাথা না ঘামানোর জন্যে ।

সরেজমিনে তথ্যানুসন্ধানে আরো জানা যায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা রীতিমতো কর্মস্থলে আসেন না, মাঝেমধ্যে আসলেও বেলা ১১ টায় এসে ১২.৩০ বিভিন্ন অফিসিয়ালি কাজের অজুহাতে কর্মস্থল ত্যাগ করেন। একাধিকবার স্থানীয় সাংবাদিকগণ বিভিন্ন তথ্যের জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়েও উনাকে না পেয়ে ফেরত আসেন।

পরবর্তীতে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করে বর্তমান করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত এলাকার বিভিন্ন তথ্যসমূহ জানতে চাওয়া হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন যে কোন তথ্যের জন্যে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উনার নিয়োজিত মুখপাত্র স্বাস্থ্য ইন্সপোক্টর সুরেশ বাবু ও লুনার সাথে যোগাযোগ করার জন্যে বলেন।

এছাড়াও নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট সূত্র হতে জানা যায় করোনা কালীন স্বাস্থ্য বিভাগ হতে প্রদত্ত মহালছড়ি উপজেলার এলাকার দূর্গত মানুষের মাঝে বিতরণের জন্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণকালে তিনি পক্ষপাতিত্বের আশ্রয় নেন। অথচ ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের বেলায় নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করা উচিত ছিলো বলে তথ্যসূত্রে উল্লেখ রয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় স্থানীয় উপজেলা পরিষদের মিটিং ও সভায় উপস্থিত থাকাটা যে উনার দায়িত্ব ও কর্তব্যের মধ্যে পড়ে, এটারও তোয়াক্কা করেন না উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্মকর্তা। এক্সরে মেশিন সংস্কার ও মেরামত করার কথা শোনা গেলেও তা করা হয় নি বলে জানা যায়।

অব্যবস্থাপনায় চলছে মহালছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

এছাড়াও স্বাস্থ্য বিভাগ ও কর্তৃপক্ষের এডভোকেসি, ওরিয়েন্টেশন, ওয়ার্কশপ সভাগুলোতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণমান্য ব্যক্তি, হেডম্যান, কার্বারী, সরকারি বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাগণের উপস্থিতি ছাড়াই এসব সভা সমাবেশগুলো তিনি নিজেদের কর্মচারী বা নিজস্ব লোক দিয়ে সম্পন্ন করেন। এমনকি তিনি কোন জাতীয় দিবসে উপস্থিত হন না।

এছাড়াও সরকার কর্তৃক ঘোষিত এলাকায় জনগণের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন তা এলাকাবাসীর যে জানার অধিকার রয়েছে সে বিষয়টারও তোয়াক্কা করেন না উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্মকর্তা। স্যানিটারী ইন্সপেক্টর আছে বলে জানা যায় কিন্তু জানা গেলেও এলাকায় তার কোন কার্যক্রম ইতিমধ্যে দৃশ্যমান নয়।

মহালছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চাকুরীরত তৃতীয় ও চতুর্থী শ্রেণির কর্মচারীগণ দীর্ঘদিন ধরে একই জায়গায় চাকুরি করার ফলে এরা এখানে শিকড় গেড়ে বসেছেন। অনেকেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জায়গা জমি দখল করে বাড়ি স্থাপনা নির্মান করে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। কোন কোন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী স্থানীয়ভাবে ক্ষমতা ও দাপট দেখায়। হাসপাতালে গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সেবার ক্ষেত্রেও তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীকে দায়িত্ব পালনে বাধ্য করতে জানা যায় । আরো পড়ুন উখিয়ায় র‍্যাবের অভিযানে ১০ হাজার ইয়াবাসহ রাজাপালংয়ের বেলাল আটক

যেমন ফার্মাসিস্টের দায়িত্ব পালন করে অন্য কর্মচারী। হাসপাতালে আসা রোগীদের টিকেট ও টোকেন দেয়ার বেলায়ও সুইপার-ঝাড়ুদার দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। তথ্যানুসন্ধানে আরো জানা যায় বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সেবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারী কর্মস্থলে না এসে বছরের পর বছর বাড়িতে বসে সরকার প্রদত্ত বেতন ও সকল প্রকার সুযোগ সুবিধাদি ভোগ করতেছে বলে তথ্যসূত্রে জানা যায়।

চলমান সময়ে করোনা ভাইরাস কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে সরকারি বিপুল অর্থ ব্যয়ে ফ্লু কর্ণার অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। আরেকটি বিষয় লক্ষনীয় যে দৈনিক হাসপাতালে আসা ডাক্তার হতে সেবা গ্রহণকারী রোগীদের হাত হতে প্রেসক্রিপশন নিয়ে ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে ওঠে বিভিন্ন ঔষুধ কোম্পানির (সেলসম্যান)বিক্রয়কর্মীগণ, অনেক সময়ে অসুস্থ রোগীগণ বিরক্তিভাব প্রকাশ করলেও তাদের পোশাক আশাক দেখে কিছু না বলে সহ্য করে ঔষুধ নিয়ে চলে যায়।

এ বিষয়ে মহালছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডাক্তার আরিফ বলেন পর্যাপ্ত স্টোর রুমের ব্যবস্থার জন্যে উপর মহলে বারংবার আবেদন করে স্টোর রুম চেয়েছেন কিন্ত আজ পর্যন্ত অপেক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি।

এই বিষয়ে মহালছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের দায়িত্বরত কর্মকর্তা ডাক্তার ধনিষ্টা চাকমার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন এই হাসপাতালের স্টোর রুম না থাকায় ঔষুধ পত্র আপাতত বারান্দার মেঝেতে রাখা হয়েছে। তিনি আরো বলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকার প্রদত্ত ঔষুধ স্টকে রাখতে স্টোর রুমের প্রয়োজন।

Share.