কাপ্তাই সীতার ঘাট মন্দির : প্রাগৈতিহাসিক যুগের অপূর্ব নির্দশন।।

0

অর্ণব মল্লিক
কাপ্তাই প্রতিনিধি।

techchtbd
রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলার শীলছড়ি এলাকায় অবস্থিত হিন্দুধর্মাবলম্বীদের অন্যতম তীর্থক্ষেত্র সীতার ঘাট মন্দির। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব লীলাভূমি কাপ্তাই যেখানে লুসাই পাহাড় থেকে বয়ে আসা শীতল জলের কর্ণফুলী নদী অপরদিকে দাঁড়িয়ে থাকা সারি সারি পাহাড়, সেখানে একটি পাহাড় রয়েছে যেটি সীতা দেবীর পাহাড় নামে পরিচিত, সেই পাহাড়ে রয়েছে সীতার ঘাট মন্দির। প্রাগৈতিহাসিক যুগের অপূর্ব নির্দশন এই সীতা মায়ের মন্দিরে প্রতিদিন ভীড় করছে শত শত পূর্নাথী।
সৌন্দর্যের অপার মহিমায় গড়ে উঠা সীতা দেবীর এই মন্দিরটি সনাতনধর্মালম্বীদের অন্যতম পূণ্য তীর্থস্থান। যেখানে প্রতিবছর উৎসব, পার্বনে দেশ বিদেশ হতে হাজার হাজার ভক্ত সমাগমের আগমন ঘটে। বিশেষ করে মহা বারুনী স্নান উপলক্ষে এই মন্দিরে বিশাল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় এবং সেখানে সবচেয়ে বেশী ভক্তের আগমন ঘটে। পূর্বে সীতা দেবীর মন্দিরটি সাধারন কাঁচা ঘরে প্রতিষ্ঠিত হলেও বর্তমানে সরকারি সহায়তা ও বিভিন্ন দানবীর ব্যক্তিদের সহায়তায় গড়ে উঠছে নাট মন্দির সহ বিভিন্ন স্থাপনা। যেই স্থাপনা গুলোর মাধ্যমে মন্দিরের সৌন্দর্য আরো বেড়েছে। এই সীতাদেবীর মন্দির এত সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠেছে যেখানে প্রবেশ করলেই মন স্থির হয়ে যায় সেই সাথে ধর্মীয় চিন্তাধারার মাধ্যমে প্রাণ জুড়ে যায়। মন্দিরের আশেপাশে বিভিন্ন রকমের ফলের বাগানে পূনার্থীরা ঘুরে মনকে শান্ত করতে পারে অনায়াসে।
কথা হয় কাপ্তাই শীলছড়ি সীতার ঘাট মন্দিরের অধ্যক্ষ জ্যোতির্ময়ানন্দ মহারাজের সাথে, তিনি জানান, ত্রেতাযুগের মা সীতাদেবী যখন বনবাসে যান তখন এই পাহাড়ে মায়ের আগমন ঘটে এবং এখানে মা সীতাদেবীর ব্যবহ্রত শীল পাথরের পাটা, সীতাদেবীর স্নান ঘাট, কুপ সহ বিভিন্ন স্মৃতি জড়ানো বস্তু রয়েছে। তিনি আরো বলেন, উক্ত মন্দিরের পাশে দুইটি অক্ষয় শিমুল বৃক্ষ এবং শম্ভুনাথ মন্দিরের পাশে যেই বৃক্ষটি আছে যা অনেক স্মৃতি বিজড়িত রয়েছে। শম্ভুনাথ মন্দিরের পাশে যেই বৃক্ষটি আছে সেটি মাটির নিচে হতে তিনটি বৃক্ষ গজালেও উপরে গিয়ে তিনটি বৃক্ষ মিলিত হয়ে একটি বৃক্ষে রূপান্তরিত হয়েছে। এখানে শিমুল বৃক্ষের নিচে কর্নফুলি নদীর কোল ঘেঁষে  পাথরের মায়ের স্নান ঘাট রয়েছে। এছাড়াও তিনি বলেন, ইতমধ্যে কাপ্তাই সীতার ঘাট মন্দির সনাতনধর্মালম্বীদের পূন্যতীর্থস্থানে রূপ নিয়েছে। এখানে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন উৎসব পার্বনে ব্যাপক ভক্ত সমাগমের আগমন ঘটে। তাই তিনি বাংলাদেশ সরকার সহ সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন যারা কাপ্তাই সীতার ঘাট মন্দির প্রতিষ্ঠার পিছনে ব্যাপক অবদান রেখেছেন। সেই সাথে সনাতন ধর্মালম্বী সকল ভক্তদেরকে তিনি এই সীতা মায়ের মন্দিরে আসার আমন্ত্রন জানান এবং  এই মন্দিরটাকে একটি পূর্নাঙ্গ কমপ্লেক্সে রুপান্তরের জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। পাশাপাশি তিনি মূল মন্দিরটি পাকাকরণ,  স্বানঘর, সাধু নিবাস এবং একটি প্রসাদ ভবন করার জন্য সরকার এবং সকল ভক্তদের নিকট অনুরোধ জানান।
মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি রতন দাশ এবং সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দাশ জানান, কাপ্তাই প্রাগৈতিহাসিক “শ্রীশ্রী মাতা সীতাদেবী মন্দির” সীতারঘাট, মহা-তির্থস্থানে ২০১৭ সালে পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব গ্রহন করি। স্থানীয় সকল ভক্তবৃন্দের নিরলস শ্রম, দানশীল ভক্তের অকুণ্ঠ সহায়তা, স্থানীয় প্রশাসন, নেতৃবৃন্দ এবং জননেতা  দীপংকর তালুকদার এম,পি মহোদয়ের অকুণ্ঠ ভালো বাসায় উন্নয়ন বোর্ড কতৃক একটি “নাট মন্দির”, জেলা পরিষদ কতৃক নদীর দু-পাড়ে দুটি “সিঁড়ি” একটি ভাঙ্গন রোধক “ওয়াল” ও একজন দানশীল ভক্তের আর্থিক সহায়তায় “শম্ভুনাথ” মন্দিরের নির্মান কাজ প্রায় শেষ পর্যায় রয়েছে। উন্নয়ন কাজে নিরলস শ্রমদানে কমিটির পক্ষ থেকে সকলকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানায়। এই মহা-তীর্থস্থানে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন অঞ্চল হতে ভক্তের শুভাগমন হয় বিধায়, একটি ভক্ত নিবাস, টয়লেট, ভোগ রান্নাঘর অতীব জরুরি। তাই এই কর্মযজ্ঞ সম্পাদনে সকলের সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন। তারা সকলকে এই মহাতীর্থ স্হান পরিদর্শনের অনুরোধ জানান।
সর্বোপরি কাপ্তাই শিলছড়িতে অবস্থিত এই সীতাদেবীর মায়ের মন্দিরটি সকল সনাতন ধর্মালম্বীদের একটি আন্তর্জাতিক পূন্যতীর্থস্থানে রূপ নিবে সকলের এই প্রত্যাশা।
Share.

Leave A Reply